ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক ছাত্রীকে ‘আপত্তিকর আচরণ ও শ্লীলতাহানির’ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে ইবি থানার এসআই শ্রীবাস কুণ্ডু মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযুক্তের নাম নুর ইসলাম। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
থানা সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ভুক্তভোগী তার বাবার সঙ্গে এসে এজাহার দায়ের করেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় (শ্লীলতাহানি) মামলা রুজু করা হয়েছে। দ্রুত কুষ্টিয়া আদালতে পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
ইবি থানার এসআই শ্রীবাস কুণ্ডু বলেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা চলছে। কয়েকবার অভিযানও চালানো হয়েছে।
এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, ১ জুলাই বেলা ১১টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে কলা অনুষদের পঞ্চম তলায় ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের বারান্দার করিডরে তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ ও যৌন হয়রানির একটি ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তিনি এর আগে কখনও দেখেননি। ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিব্রত ও আতঙ্কিত করেছে। এরপর ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলামকে সদস্যসচিব ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলীনূর রহমান বলেন, আমরা আজ প্রথম সভা করেছি। কিছু অভ্যন্তরীণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ, পত্রিকার প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, মেয়েটি ও তার বাবা এসে এজাহার দায়ের করেছেন। এখন মামলাটি প্রক্রিয়াধীন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।
আরটিভি/টিআর




